আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মস্কোতে সাম্প্রতিক ইউক্রেনীয় হামলার জবাবে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, এটি চলতি বছরে রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি।
বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভের বিভিন্ন আবাসিক ভবন, হোটেল, হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি সেবা কর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়া বেসামরিক এলাকাকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। তিনি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে দ্রুত আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ক্রেমলিনের মুখপাত্র Dmitry Peskov দাবি করেন, এই হামলা ছিল মস্কো ও রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার জবাব। তার ভাষ্য, রুশ বাহিনী শুধুমাত্র সামরিক ও সামরিক-সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে এবং ভবিষ্যতেও ইউক্রেনের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হবে।
ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, হামলায় রাশিয়া শত শত ড্রোন এবং কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করলেও অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কিয়েভে আঘাত হানে, যার ফলে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এই হামলার পর কিয়েভে শোক দিবস ঘোষণা করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল বেসামরিক এলাকায় হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইউক্রেনকে অতিরিক্ত আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা চলছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন